• সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাজুর বাবার দাফন সমপন্ন আশা জাগাচ্ছে বায়ুবিদ্যুৎ ডিসেম্বরে ঘুরবে ট্রেনের চাকা মূল্যস্ফীতি হ্রাসে ব্যাংক থেকে ঋণ কমাতে চায় সরকার বদলে যাবে হাওরের কৃষি বাংলাদেশে নতুন জলবায়ু স্মার্ট প্রাণিসম্পদ প্রকল্প চালু যুক্তরাষ্ট্রের ‘তথ্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩ জন মুখপাত্র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে’ অস্বস্তি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন মোড় এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা উঠে যাচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা দূর ৫০০ একর খাসজমি বরাদ্দ স্বাধীনতাবিরোধীদের পদচিহ্নও থাকবে না: রাষ্ট্রপতি আজ জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী পতেঙ্গা সৈকত ঘিরে মাস্টার প্ল্যান তৈরিসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত কর্মপরিধি বাড়ছে জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের উত্তরের যোগাযোগে আসবে গতি চট্টগ্রাম বন্দরে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে আবুধাবি পোর্ট গ্রুপ হেমায়েতপুরে হবে বহুতল টার্মিনাল চাহিদার চেয়ে ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত দেশকে আরও এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল একটা জাগরণ : নানক

জাতিসংঘের দুর্নীতি প্রতিরোধী সংস্থার সদস্য হলো বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জ টাইমস / ৯ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০২৪

দুর্নীতিবিরোধী জাতিসংঘের নতুন প্ল্যাটফর্ম গ্লোব-ই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন বছর পর এর সদস্য হলো বাংলাদেশ। গত মার্চে বাংলাদেশ এর সদস্য হওয়ার পর এ ক্ষেত্রে দেশের ফোকাল পয়েন্ট নিযুক্ত হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ অন্য দেশ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে জাতিসংঘের নতুন প্ল্যাটফর্মটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে দুদক।

এখন থেকে দুদক গ্লোব-ই নেটওয়ার্কের (পুরো নাম দ্য গ্লোবাল অপারেশনাল নেটওয়ার্ক অব অ্যান্টিকরাপশন ল এনফোর্সমেন্ট অথরিটিজ) সদস্য অন্য দেশের ফোকাল পয়েন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিয়ম মেনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহে দুদককে অন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।

সূত্র জানায়, দুদক বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের তথ্য সংগ্রহ করতে প্রথমে জাতিসংঘের ড্রাগ ও অপরাধবিষয়ক অফিসের (ইউএনওডিসি) গ্লোব-ই নেটওয়ার্কের ই-মেইলে চিঠি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাবে। সংস্থাটি পরে ওইসব কাগজপত্র ই-মেইলে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠাবে। গ্লোব-ই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র দেখবে না বা যাচাই করে না। সেগুলো পাওয়ামাত্র সরাসরি পাঠিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে তারা এক দেশের তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আরেক দেশে কাগজপত্র পাঠাতে গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে।

গ্লোব-ই নেটওয়ার্কের আনুষ্ঠানিকতার পর তথ্যপ্রত্যাশী এবং তথ্য প্রদানকারী দেশের ফোকাল পয়েন্ট সরাসরি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে। তারা চিঠি চালাচালি করবে। ফোনে কথা বলবে, অনলাইনে আলোচনা করবে। প্রয়োজনে দুই দেশের ফোকাল পয়েন্টের কর্মকর্তারা সশরীরে সভাও করতে পারবেন।

এর আগে দুদক ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট করাপশনের (আনকাক) মাধ্যমে পাচার অর্থের তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল। আনকাকের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের ভেতরে প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হতো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এমএলএআর পাঠানো হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমেও অর্থ পাচারের তথ্য সংগ্রহ করে আসছে দুদক। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, অপরিপূর্ণ তথ্য, সময়মতো যোগাযোগ না হওয়া, তথ্য না পাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে আনকাকের ভূমিকা ফলপ্রসূ না হওয়ায় জাতিসংঘের ইউএনওডিসির অফিসের মাধ্যমে ২০২১ সালে গ্লোব-ই নেটওয়ার্ক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ফোকাল পয়েন্টের কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তাতে দীর্ঘসূত্রতা ও তথ্য আদান-প্রদানের অনিশ্চয়তা থাকবে না।

গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আগে যেসব সংস্থার মাধ্যমে বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল, সেগুলো অর্থবহ হয়নি। অতীতের কাজগুলো মূল্যায়ন করেই জাতিসংঘ গ্লোব-ই নেটওয়ার্ক চালু করেছে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় অন্য দেশে সরাসরি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। দুদক কিছু দেশে পাচার করা অর্থের তথ্য সংগ্রহ করতে শিগগির গ্লোব-ই নেটওয়ার্কে চিঠি পাঠাবে।

দুদক সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদেশ থেকে অর্থ পাচার-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার জন্য বিএফআইইউর ওপর নির্ভর করতে হয়। তাদের মাধ্যমে সীমিত আকারে শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। আসামির বিদেশে রক্ষিত স্থাবর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যতীত অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় না। বিএফআইইউর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশে পাঠানো এমএলএআরের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা প্রমাণ করতে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে সহায়ক আলামত পাওয়ার উদাহরণ অত্যন্ত কম।

জানা গেছে, আনকাকের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদে আন্তঃদেশীয় দুর্নীতিবিষয়ক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অনানুষ্ঠানিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে আনকাকের সচিবালয় ইউএনওডিসি আনকাকে স্বাক্ষরকারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্বের দুর্নীতির ঝুঁকি হ্রাসে গ্লোব-ই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা’– এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গ্লোব-ই নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হচ্ছে। সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় দুর্নীতি চিহ্নিত, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যে বিশ্বের ১১৩টি দেশ ও ২০৩টি সংস্থা সদস্য হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর অ্যান্টিকরাপশন এজেন্সি (এসিএ) এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সহজে চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান দুদক গ্লোব-ই নেটওয়ার্কের সদস্য হয়েছে গত ১ মার্চ।

এর ফলে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ফোকাল পয়েন্টের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সারাবছরই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন। এতে এমএলএআর পাঠানোর আগেই সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি সহজে পাওয়া যাবে। এতে সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার করা অর্থসম্পদ চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ ও ক্রোক করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আদালতে মামলা প্রমাণ করে বিদেশে পাচারকৃত অর্থসম্পদ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।

দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাধারী ৫৪৯ প্রবাসী বাংলাদেশির নামে দুবাইতে ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশিদের পাচার করা ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুবাইতে ৯৭২টি ফ্ল্যাট/আবাসনের মালিক হওয়ার এই অভিযোগ দুদকে অনুসন্ধানাধীন। দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের ওই সব সম্পদ/সম্পত্তি অর্জনে বিনিয়োগ করা অর্থ বৈধভাবে নেওয়া হয়নি। ওইসব অর্থ নেওয়া হয়েছে অবৈধভাবে। অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম প্রকল্প এবং কানাডার বেগমপাড়ায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগসহ বিদেশে আরও পাচার অর্থের সন্ধান করছে দুদক। এখন পাচারকৃত অর্থসম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে গ্লোব-ই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর