• শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে করারোপ হচ্ছে না ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে বাধা নেই টেলিটক, বিটিসিএলকে লাভজনক করতে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ ভারত থেকে ২শ কোচ কেনার চুক্তি বেসরকারি কোম্পানি চালাতে পারবে ট্রেন দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৭৮৪ ডলার ৫ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু চালু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বুদ্ধ পূর্ণিমা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ করলেন বিপ্লব বড়ুয়া ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক নিত্যপণ্যের বাজার কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর উত্তরা থেকে টঙ্গী মেট্রোরেলে হবে নতুন ৫ স্টেশন এমপিও শিক্ষকদের জন্য আসছে আচরণবিধি সরকার ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে কাজ করছে: পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী কানাডা মেট্রোরেলে ভ্যাট এনবিআরের ভুল সিদ্ধান্ত ২৫ মে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের উদ্ভোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সাগরে মাছ ধরা ৬৫ দিন বন্ধ বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তিনজন নিহত বঙ্গবন্ধু ‘জুলিও কুরি’ পদক নীতিমালা মন্ত্রিসভায় উঠছে

রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বগতি, রিজার্ভ বাড়ছে

সিরাজগঞ্জ টাইমস / ৫১ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ ফের বাড়তে শুরু করেছে। টানা দুই মাস বড় পতনের পর নভেম্বর মাসে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক আবার ইতিবাচক ধারায় ফেরে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে আরও স্বস্তির খবর হলো, উল্লম্ফনের ধারায় ফিরেছে রেমিট্যান্স।

ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে হুন্ডি বন্ধসহ নানা পদক্ষেপের পর চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে ৯৪ কোটি ১১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সেই হিসাবে প্রতিদিন এসেছে গড়ে প্রায় ছয় কোটি ডলার। নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। প্রতিদিন গড়ে এসেছিল পাঁচ কোটি ৩১ লাখ ডলার। আগের দুই মাস— অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন এসেছিল যথাক্রমে চার কোটি ৯২ লাখ ও পাঁচ কোটি ১৩ লাখ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রতিদিন প্রায় সাত কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের ফলে টানা দুই মাস পতনের পর নভেম্বরে ইতিবাচক ধারায় ফেরে রেমিট্যান্স। ডিসেম্বরে সেই ধারা আরও ইতিবাচক হওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে হুন্ডি বন্ধে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আশা, জুলাই ও আগস্টের মতো ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্সের অঙ্ক দুই বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারে পৌঁছবে। বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার চলতি মাসের ১৬ দিনের (১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর) রেমিট্যান্সের তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ১৬ দিনে ৯৪ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে দুই কোটি ২৬ লাখ ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৭৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। আর ৯টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ডলার।

নভেম্বর মাসে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার (১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। আর আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে বেশি ছিল ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দুই মাস পর নভেম্বরে প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছিল রেমিট্যান্স। আগের দুই মাস সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে যথাক্রমে ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ এবং ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৮৭৯ কোটি ৩১ লাখ (৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালের এই পাঁচ মাসে ৮ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। জুলাইয়ে এসেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা ছিল আগের ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ছিল ১২ শতাংশ বেশি। আগস্টে আসে ২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওই দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

কিন্তু সেপ্টেম্বরে এসে হোঁচট খায়। ওই মাসে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন; যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল। পরের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। যা ছিল আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

রিজার্ভ বাড়ছে
আমদানি কমার পরও রেমিট্যান্সের ধীরগতি এবং রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রির কারণে গত ৩০ নভেম্বর রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন (৩ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের নিচে নেমে ৩৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় রিজার্ভ ফের বাড়তে শুরু করেছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে অবৈধভাবে হুন্ডিতে অর্থ পাঠানোর কারণ সেখানে ডলারের দর বেশি পাওয়া যায়। প্রতি ডলারের বিপরীতে তিন থেকে চার টাকার ব্যবধান অনেককেই এভাবে অর্থ পাঠানোতে আগ্রহী করছে।’

তিনি বলেন, ‘খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দর এখন ১১২ থেকে ১১৩ টাকা। ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে ১০৭ টাকা পাওয়া যায়। তার সঙ্গে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যোগ হয়ে পাওয়া যায় ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে, যার নামে পাঠান তিনি ১১৩ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন।’

এ সব কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বেড়ে গেছে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কম আসছে বলে মনে করছেন আহসান মনসুর। দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা আহসান মনসুর বলেন, ‘মূলত হুন্ডি বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সূচক কমছে। এটা বন্ধ করতে হবে। হুন্ডি কারবারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে কিন্তু রেমিট্যান্স বাড়বে না; রিজার্ভ আরও কমে যাবে।’

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তার আগের বছরে (২০২০-২১) অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

হুন্ডি বন্ধে নানা পদক্ষেপ
সম্প্রতি হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্সের ২৩০ জন বেনিফিশিয়ারির হিসাবে সাময়িকভাবে উত্তোলন স্থগিত করেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ভবিষ্যতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাবে— এমন প্রতিশ্রুতি দিলে হিসাবগুলো খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

হুন্ডি বন্ধে পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বৈধ উপায়ে পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া, রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যক্তিদের সিআইপি সম্মাননা দেয়া, রেমিট্যান্স বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজ করা, অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ণ অর্থায়ন সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা ও রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করা হয়েছে।

এ দিকে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের প্রিয়জনদের জানানো যাচ্ছে যে, কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে) প্রেরণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের উদ্দেশে আরও বলা হয়, ‘আপনাদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে না পাঠিয়ে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করুন, দেশ গড়ায় মূল্যবান অবদান রাখুন এবং আপনার প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন।’

অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে প্রমাণসাপেক্ষে প্রচলিত আইনে বিএফআইইউ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিদেশ থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনার প্রক্রিয়াও আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিকাশ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে সরাসরি প্রবাসী আয় আনার সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২৯ নভেম্বর এক সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ‘এখন থেকে প্রবাসীরা ঘরে বসেই মোবাইলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন।’

হুন্ডি ঠেকাতে রেমিট্যান্স আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর