সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

বদলির নির্দেশিকা সংশোধন চান প্রাথমিকের শিক্ষকরা

ঢাকা অফিস :
  • সময় কাল : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

‘সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা-২০২২’ সংশোধনের দাবি তুলেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের দাবি, বদলির নির্দেশিকায় ‘শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাতের’ শর্ত শিক্ষকদের বঞ্চিত করছে। এই নির্দেশিকা সংশোধন না করা হলে অনলাইনে আবেদন করে কোনও কোনও শিক্ষক চাকরি জীবনের শেষ দিন পর্যন্তও বদলি হতে পারবেন না।

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ভাষ্য, ‘সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা ২০২২’-এর ৩ দশমিক ৩ এবং ৩ দশমিক ৬ ধারাটির জন্য অধিকাংশ শিক্ষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাসেম বলেন, ‘নির্দেশিকার ৩ দশমিক ৩ ধারা অনুযায়ী শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত ১:৪০-এর বেশি হলে বদলি করা যাবে না, এটি রহিত করতে হবে।

এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, চার কিংবা তার চেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন, এমন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাধারণভাবে বদলি করা যাবে না। মো. আবুল কাসেম বলেন, ‘এটি সংশোধন করে নতুন শিক্ষক প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলির সুযোগ দিতে হবে। তাহলে শিক্ষকরা বঞ্চিত হবেন না। পারস্পারিক বদলির সুযোগ সৃষ্টি করলেও শিক্ষকরা উপকৃত হবেন। একইসঙ্গে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটবে না। ৩ দশমিক ৬ ধারায় একাধিক প্রার্থী থাকলে দূরত্ব, লিঙ্গ, বিবাহসহ অন্যান্য অপশনের পরিবর্তে চাকরির জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বদলির ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই নেতা আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের পক্ষে বদলির সমস্যা নিরসনে গত ১০ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন জানিয়েছি। যুক্তসহ এসব দাবিগুলো তুলে ধরেছি আবেদনে।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাসেম এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের সই করা আবেদনে বলা হয়, ‘অনলাইন বদলির কার্যক্রম শুরু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। আমাদের ধারণা এতে সব ধরনের অনিয়ম দূর হবে।’

দুটি ধারা সংশোধনের দাবি করে তারা আরও বলেন, ‘যেহেতু প্রথম বারের মতো অনলাইন বদলি কার্যক্রম হচ্ছে, সেহেতু অধিকাংশের আবেদন সামান্য ভুলের কারণে বাতিল হচ্ছে। তাই আবেদনে আপিল শুনানির সুযোগ চাওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মহিবুর রহমান মোবাইল রিসিভ করেনি। ম্যাসেজ পাঠানোর পর মোবাইলে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এর আগে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘একটি বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষক বা তার কম থাকলে নির্দেশিকা অনুযায়ী ওই বিদ্যালয় থেকে বদলির সুযোগ পাবেন না কোনও শিক্ষক। তাছাড়া একজন শিক্ষকের বিপরীতে ৪০ জন শিক্ষার্থীর বেশি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় থেকে বদলি হতে পাবেন না কোনও শিক্ষক। এটা করা না হলে সুবিধাজনক জায়গায় বদলি হয়ে যাবেন শিক্ষকরা। এতে মফস্বলের কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষক কমে যাবে। তাহলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিশ্চিত হবে কীভাবে। তবে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের কাজ শেষ হলে তখন এই সমস্যা থাকবে না। সংযুক্তি নিয়ে কোথায় বেশি শিক্ষক কর্মরত থাকলে প্রশাসনিকভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বদলি করা হবে।’

সফটওয়ারে ত্রুটির অভিযোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষকরা বলছেন—  নীতিমালার ৩ দশমিক ৩ ধারায় ‘অথবা’ দিয়ে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর যেকোনও একটি পূরণ করলেই আবেদন করতে পারার কথা। কিন্তু দুটি পূরণ না হলে আবেদন নিচ্ছে না। এটি নীতিমালার কারণে নয়, সফটওয়ার ত্রুটির কারণে।

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘নিয়োগ সাপেক্ষে বদলি এবং যে কারণে অনলাইন বদলি চালু করলে শিক্ষকরা অনেকে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। মিউচুয়াল বদলির সুযোগ দিলে এই সমস্যা থাকবে না। আর সফটওয়ারে ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা উচিত।’

সুত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

নিউজটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর  কোন লেখা,ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102