সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৫ অপরাহ্ন

চলনবিলে জীববৈচিত্র হুমকির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

মৎস্য ভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের চলনবিলে বিভিন্ন স্থানে অবাধে শামুক নিধন চলছে। এতে ঐতিহাসিক চলনবিল এলাকার জীববৈচিত্র এখন হুমকির মুখে। সেইসাথে জমির উর্বরতা হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। অথচ অপরিকল্পিত ভাবে এ শামুক নিধন রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উক্ত বিলে বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে অবাধে এ শামুক শিকার করা হচ্ছে। তারা দিনরাত নৌকা যোগে জাল দিয়ে ওই বিলে শামুক নিধন করছে।

তাড়াশ উপজেলার দীঘি সগুনা বাজার, হামকুড়িয়া বাজার, মান্নাননগর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের কাছে বস্তা ভর্তি শামুক বিক্রি করা হচ্ছে। তারা কম দামে এ শামুক কিনে বেশি দামে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাঁস ও মাছের খামারে সরবারহ করছে।

প্রতি বস্তা শামুক ব্যবসায়ীদের কাছে ১২০/১২৫ টাকায় বিক্রি করে এবং তারা বিভিন্ন স্থানে হাঁস ও মাছের খামারিদের কাছে প্রতি বস্তা ১৪০/১৪৫ টাকায় বিক্রি করছে। এতে শামুক সংগ্রহকারীরা কিছু আর্থিক লাভবান হলেও বেশি লাভবান হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। শামুক সংগ্রহকারী অনেকেই বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে তেমন কোনো কাজকর্ম না থাকায় ওই বিলে নৌকা যোগে মই জাল ও হেসি জাল দিয়ে শামুক সংগ্রহ করে থাকি এবং প্রতি বস্তা শামুক স্থানীয় বাজারে ১২০/১২৫ টাকায় বিক্রি করছি।

শামুক ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার শুরু থেকেই চলনবিলে প্রচুর শামুক পাওয়া যায় এবং এ এলাকার জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিভিন্নভাবে শামুক সংগ্রহ করে। এ শামুক কিনে স্থানীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাঁস ও মাছের খামারিদের কাছে বিক্রি করছি। এদিকে চলনবিলে অপরিকল্পিতভাবে শামুক নিধনের কারনে জীববৈচিত্যের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে।

সেইসাথে ফসলি জমির উর্বরতাও হ্রাস পেতে পারে। ঐতিহাসিক চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, চলনবিলের সব ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অন্যের পরিপূরক। এসব প্রাণী বা উদ্ভিদের একটি ক্ষতি হলে অপর একাধিক প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ শামুক নিধনের কারনে চলনবিলের প্রকৃতির ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শামুক নিধন রোধে স্থানীয় প্রসাশনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্ষার শেষে দিকে ওই বিলের পানি কমার সাথে সাথে ঝাঁক শামুকের বেশিরভাগ শামুক মারা যায়। এ মরা শামুক মাটিতে মিশে কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু শামুক নিধনরোধে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের দিক নির্দেশনা না থাকলেও এ বিষয়ে দেখা হবে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাউল করিম বলেন, চলনবিলে অবাধে শামুক নিধন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর  কোন লেখা,ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102