• শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি তেল যাবে পাইপ লাইনে কাতারের আমির আসছেন সোমবার রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে ক্যাশলেস পদ্ধতিতে যাচ্ছে এনবিআর বাংলাদেশে দূতাবাস খুলছে গ্রিস বঙ্গবন্ধু টানেলে পুলিশ-নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের জরুরি যানবাহনের টোল মওকুফ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আসছেন আরও ৪ লাখ মানুষ ৫০ বছরে দেশের সাফল্য চোখে পড়ার মতো চালের বস্তায় জাত, দাম উৎপাদনের তারিখ লিখতেই হবে মন্ত্রী-এমপির প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে বেসরকারি খাত এগিয়ে আসুক ফের আশা জাগাচ্ছে লালদিয়া চর কনটেইনার টার্মিনাল ‘মাই লকারে’ স্মার্টযাত্রা আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১০.৪৩ শতাংশ বঙ্গবাজারে দশতলা মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু শিগগিরই বেঁচে গেলেন শতাধিক যাত্রী ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব না খাটানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

এবার বিনিয়োগ টার্গেট ২০৪১

সিরাজগঞ্জ টাইমস / ২৬ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৩

সরকারের ভিশন-২০৪১-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবার বিনিয়োগ বাড়াতে এমন একটি টার্গেট গ্রহণ করা হচ্ছে- যার মাধ্যমে উন্নত দেশের ন্যায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণ (ইজি অব ডুয়িং বিজনেস) কার্যক্রম স্থগিতের পর ব্যবসা-বাণিজ্যে যে সংস্কার কার্যক্রম থেমে গিয়েছিল এর মধ্য দিয়ে আবারও সেই কার্যক্রম শুরু হবে। উপরন্তু বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচিটি শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামভিত্তিক পরিচালিত হলেও সরকারের নতুন উদ্যোগটি সারা দেশব্যাপী পরিচালিত হবে। আর এই সংস্কার কর্মসূচি এমনভাবে বাস্তবায়ন হবে যাতে প্রতি বছর অন্তত ১০ শতাংশ হারে নতুন বিনিয়োগ রেজিস্ট্রেশন ও শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে।

‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এই কর্মসূচির মূল ভিত্তি হবে- ‘রূপকল্প-২০৪১’। অর্থাৎ সরকার ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে যে কৌশল গ্রহণ করেছে-এই কর্মসূচিটি সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর পরিচালক জীবন কৃষ্ণ রায় বলেন, সরকারের ‘রূপকল্প -২০৪১’-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ কার্যক্রম পরিচালনা করতে এরই মধ্যে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেটি কেবিনেট সচিব অনুমোদনও করেছেন। এখন সেই রূপরেখা অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যে সংস্কার কার্যক্রম গৃহীত হবে। বিডার এই কর্মকর্তা জানান, বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ কার্যক্রম স্থগিতের পরিপ্রেক্ষিতে তার অনুবৃত্তিক্রমে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংকের সংস্কার কর্মসূচিটি শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামভিত্তিক হলেও নতুন কর্মসূচিটি সারা দেশের ৬৪ জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে বিভাগীয় শহরের বাইরেও জেলা পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেসব সমস্যা সমাধানেও সংস্কার কার্যক্রম গৃহীত হবে এই কর্মসূচিতে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার তার প্রথম ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের পর এখন ‘রূপকল্প-২০৪২’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামী দুই দশকে ‘মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)’-এর গড় প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশ হারে। প্রবৃদ্ধির এ পথ ধরে ২০৩১ সালের বাংলাদেশ হবে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ। তখন মাথাপিছু জাতীয় আয় হবে ৩ হাজার ২৭১ ডলার। আর ২০৪১ সালের বাংলাদেশে মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ন্যূনতম ১২ হাজার ৫০০ ডলার। এই রূপকল্প অনুযায়ী ২০৪১ সালে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা নামিয়ে আনা হবে ২ দশমিক ৫৯ শতাংশে; পাশাপাশি চরম দারিদ্র্য অর্থাৎ যাদের দৈনিক আয় ২ দশমিক ১৬ ডলারের কম, তাদের সংখ্যা কমিয়ে ০ দশমিক ৬৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের ‘ভিশন-২০৪১’ অর্জনে যে পরিমাণ বিনিয়োগ লাগবে সেটি নিশ্চিত করতে চাইলে দেশে আন্তর্জাতিক মানের বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য যেসব খাতে সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে- অগ্রাধিকারভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে প্রথম ৫০টি সংস্কার কার্যক্রম গৃহীত হবে যা ৫০ সপ্তাহে নিষ্পন্ন করা হবে; ১০০টি সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে তিন বছরের মধ্যে; প্রতি বছর বিনিয়োগের নিবন্ধন ন্যূনতম ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে; একই সঙ্গে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের টার্গেট থাকবে এই কর্মসূচিতে। এই সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মিত বেসরকারি খাতের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও মতামত নেওয়া হবে এবং প্রতি তিন মাস অথবা ছয় মাস অন্তর সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রকাশ করা হবে।

এই কর্মসূচিটিতে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বেঁধে দেওয়া হবে টাইমলাইন। ব্যবসা-বাণিজ্য লাভজনক করতে এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে এই কর্মসূচিতে কিছু লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হবে, যেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না সেটি মনিটরিং করতে থাকবে একটি উচ্চপর্যায়ের ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি। এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্টা; অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/উপমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, এফআইসিসিআই এবং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সদস্য হিসেবে থাকবেন। সদস্য সচিব হবেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর