রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

উড়ালপথে সাভার থেকে যাত্রাবাড়ী

সিরাজগঞ্জ টাইমস ডেস্ক:
  • সময় কাল : শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের পাশাপাশি এবার সাভার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। আগামীকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। এর ফলে উড়ালপথে সাভার থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার পথ সংযুক্ত হবে। এ পথ যেতে লাগবে এক ঘণ্টারও কম। রাজধানী ঢাকার যানজট এড়িয়ে উত্তরবঙ্গের সব ধরনের যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে পারবে। এতে ঢাকার যানজট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। উত্তর-দক্ষিণের কানেকটিভিটি অনেক বেড়ে যাবে।

‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে ২০১৭ সালে অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। যদিও কাজ শুরুর আগেই শেষ হয়েছে মেয়াদ। তাই প্রকল্পটি সংশোধন করে আরও চার বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সঙ্গে নির্মাণ ব্যয়ও বেড়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বর্তমানে নির্মাণ ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে হবে রাজধানীর দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রথমটি হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। নকশা অনুযায়ী বিমানবন্দরে এসে একসঙ্গে মিলবে ঢাকা ও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। নির্মাণকাজ শেষ হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলোকে আর ঢাকার যানজটে পড়তে হবে না। দুটি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে দ্রুতই রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে চলে যেতে পারবে অন্য প্রান্তে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণে জিটুজি পদ্ধতিতে তৈরি হবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি। এ ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। সময়মতো ঋণচুক্তি করতে না পারায় প্রকল্পটির মেয়াদ পিছিয়ে যায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণচুক্তির পর নির্মাণকাজের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলক পাইলিংয়ের কাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক কাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হবে আগামীকাল শনিবার। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও ইপিজেডসংলগ্ন শিল্প এলাকার যানজট নিরসন এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করবে এক্সপ্রেসওয়েটি। এটি ব্যবহার করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫-৬টি জেলার মানুষ সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সরাসরি সংযুক্ত হয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহনেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হবে বিমানবন্দর, আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড রুটে। বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উড়ালপথে ওঠানামার জন্য তৈরি হবে ১৬টি র‌্যাম্প। আর র‌্যাম্পগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি প্রায় ১৪ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ করা হবে একই প্রকল্পের মাধ্যমে। এ ছাড়া নবীনগরে তৈরি করা হবে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার, ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু, ৫০০ মিটার ওভারপাস।

দ্রুত এগোচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ : এদিকে রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়ালপথ) নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেনের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত দৈর্ঘ্য সাড়ে ১১ কিলোমিটার। এ অংশটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হলে বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে যাত্রাবাড়ী। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানান, আগামী ডিসেম্বরে বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত অংশ খুলে দেওয়া লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী এক্সপ্রেসওয়ের চালুর সময়সীমা আবারও বদলাতে হবে, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বনানী থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত এখনো অনেক কাজ বাকি। এখন দিনরাত চলছে নির্মাণকাজ। ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা বদল, অর্থ সংস্থানসহ নানা জটিলতায় চারবার পিছিয়ে যায় নির্মাণকাজ। বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর  কোন লেখা,ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102