রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

অক্টোবরে আসছে থার্ড টার্মিনাল

সিরাজগঞ্জ টাইমস ডেস্ক:
  • সময় কাল : শনিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের ৫৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন। এ প্রকল্প শেষে আরও একটি রানওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজের ৫৬ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পের কাজে সাশ্রয় হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের কিছু কাজ এর মধ্যেই করা হচ্ছে। এজন্য প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বাড়বে। আগে বোর্ডিং ব্রিজ ১২টি নির্মাণের কথা ছিল এখন ২৬টি নির্মাণ করা হচ্ছে। ভিভিআইপি টার্মিনাল বানানো হচ্ছে। এর ফলে পরে অপারেশনাল কাজে বিঘ্ন হবে না। জাইকা থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুমোদন পেতে কিছুটা সময় লেগেছে। এসব কাজ আগের দামে হবে না, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। সংশোধিত প্রকল্প বাজেটে এগুলো নির্ধারিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের অক্টোবরে প্রথম পর্যায়ের কাজের উদ্বোধন করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ওঠানামা অনেক বাড়বে। একটা রানওয়ে দিয়ে এত বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আরেকটি রানওয়ে তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এটা আলাদা ফুলফেজের ইনডিপেনডেন্ট রানওয়ে হবে না, এটা হবে ডিপেনডেন্ট রানওয়ে। অর্থাৎ একটি রানওয়ে দিয়ে ফ্লাইট ওঠানামার সময় আরেকটি বন্ধ থাকবে। দুটি রানওয়ের সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এভাবে রানওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে যে দুটি টার্মিনাল রয়েছে, তার যাত্রীধারণ ক্ষমতা বছরে প্রায় ৭০ লাখ। তৃতীয় টার্মিনাল তৈরি হলে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটির কাছাকাছি। ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি প্লেন রাখার অ্যাপ্রোন (প্লেন পার্ক করার জায়গা) নির্মাণ করা হচ্ছে। টার্মিনাল ভবন হবে ২ লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটারের। ভবনের ভিতরে থাকবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ও অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া। নির্মাণাধীন টার্মিনালটিতে বেশ কয়েকটি স্ট্রেইট এসকেলেটর লাগানো হবে। যারা বিমানবন্দরের ভিতরে দীর্ঘ পথ হাঁটতে পারবেন না, তাদের জন্য এ ব্যবস্থা। সিঙ্গাপুর, ব্যাংককসহ বিশ্বের অত্যাধুনিক বিমানবন্দরগুলোয় বেশি যাত্রীপ্রবাহের জায়গায় এ এসকেলেটরগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি যাত্রীদের মসৃণ যাত্রার অভিজ্ঞতা দেবে। বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে মেট্রোরেল। তৈরি হবে পৃথক একটি স্টেশনও। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বের না হয়েই মেট্রোরেলে নিজেদের গন্তব্যে যেতে পারবেন। এ ছাড়া ঢাকার যে কোনো স্টেশন থেকে মেট্রোরেলের মাধ্যমে সরাসরি বিমানবন্দরে বহির্গমন এলাকায় যাওয়া যাবে।

টার্মিনালটির প্রতিটি ওয়াশরুমের সামনে থাকবে একটি করে বেবিকেয়ার লাউঞ্জ। এ লাউঞ্জের ভিতর মায়েদের ব্রেস্ট ফিডিং বুথ, একটি বড় পরিসরে ফ্যামিলি বাথরুম থাকবে। এ ছাড়া শিশুদের খেলার জন্য স্লিপার-দোলনাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকবে। হেলথ ইনস্পেকশন সুবিধা, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফার্স্ট এইড রুম, নানা রোগের টেস্টিং সেন্টার ও আইসোলেশন এরিয়া থাকবে। টার্মিনালের ভিতরের ভবনটির নকশা তৈরি করেছেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। মোট খরচের মধ্যে সরকার দেবে ৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার এবং ঋণ হিসেবে জাপানের সংস্থা জাইকা দেবে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। থার্ড টার্মিনালের নকশায় পর্যাপ্তসংখ্যক এক্সেলেটর, সাবস্টেশন ও লিফট সংযুক্ত রাখা হয়েছে। থাকবে রাডার, কন্ট্রোল টাওয়ার, অপারেশন ভবন, বহুতল কারপার্ক। তিন তলাবিশিষ্ট এ টার্মিনাল ভবনটির স্থাপত্যরীতিতে আনা হবে অনন্য নান্দনিকতা। টার্মিনাল ভবনের বহির্বিভাগে থাকবে চোখধাঁধানো নকশা।

নিউজটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর  কোন লেখা,ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102